Saturday, April 16, 2011

আমার প্রেম কথা ৩য় খন্ড


অনামিকা এখন অতীত। রাশেদ চায় না অনামিকার স্মৃতি ফিরে আসুক। কিন্তু সেও তো মানুষ। তার একটি মন আছে।সেই মনের মাঝে তার অনা ঘর করছে। তাই তো তার ইচ্ছে হয় মাঝে মাঝে অনার সাথে কথা বলতে। কিন্তু সেই সুযোগ নেই। দুই পরিবার থেকেই কঠোর নিষেধাজ্ঞা। রাশেদ ও অনামিকা কেউ কারো সাথে কোন যোগাযোগ করতে পারবে না। কিন্তু মন তো বাঁধা মানে না। তাই রাশেদ প্রায়ই অন্য নম্বর থেকে ফোন দিত অনাকে। কিন্তু কথা বলত না। শুধুমাত্র অনামিকার কণ্ঠস্বর শুনেই ফোন কেতে দিতো। আর দুচোখের জল ফেলত। এভাবে রাশেদের দিন কেটে যেত। হঠাৎ একদিন রাশেদের ফেসবুক একাউন্টে একটি মেসেজ আসে। 


Jisan Khan মার্চ 18, 2010, 9:20অপরাহ্ন-এ 
016********-onamika
Rashed মার্চ 18, 2010, 9:21অপরাহ্ন-এ
Who r u?
Jisan Khan মার্চ 18, 2010, 9:23অপরাহ্ন-এ 
its not necessary who i m ..........u needed the number u got the number
Rashed মার্চ 18, 2010, 9:24অপরাহ্ন-এ
Ai number ta amar kasa asa
Jisan Khan মার্চ 18, 2010, 9:25অপরাহ্ন-এ 
kemon kore paiso
Rashed মার্চ 18, 2010, 9:25অপরাহ্ন-এ
Who told u that i need her number?
Jisan Khan মার্চ 18, 2010, 9:25অপরাহ্ন-এ 
ami joto dur mone ase ami toe dei nai
Jisan Khan মার্চ 18, 2010, 9:27অপরাহ্ন-এ 
this world is a short place to live in
Jisan Khan মার্চ 18, 2010, 9:27অপরাহ্ন-এ 
words fly around from place to place
Rashed মার্চ 18, 2010, 9:28অপরাহ্ন-এ
Do u know me?
Jisan Khan মার্চ 18, 2010, 9:29অপরাহ্ন-এ 
like duh ...............................emni emni ki dilam ..number ta ????????......................................i dun forget people
Rashed মার্চ 18, 2010, 9:30অপরাহ্ন-এ
ona, is it u?
Jisan Khan মার্চ 18, 2010, 9:31অপরাহ্ন-এ 
whatever u think
Rashed মার্চ 18, 2010, 9:34অপরাহ্ন-এ
ami to tomak fon di, but tumi ignore koro. tumi kivaba vabla j ami tomak vula jabo!

Jisan Khan মার্চ 18, 2010, 9:34অপরাহ্ন-এ 
kobe phn dila tomar number kunta
Rashed মার্চ 18, 2010, 9:37অপরাহ্ন-এ
ow... number vula gaso! ok, ami fon dicchi. aktu pora. ami matro bahir thaka aslam, fresh hoi, tarpor.
Jisan Khan মার্চ 18, 2010, 9:37অপরাহ্ন-এ 
ekhn dio na ratre 10 tai dao
Rashed মার্চ 18, 2010, 9:39অপরাহ্ন-এ
ok!
Jisan Khan মার্চ 18, 2010, 9:57অপরাহ্ন-এ 
ekhn dao !!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!
Jisan Khan মার্চ 18, 2010, 9:59অপরাহ্ন-এ 
aso
Jisan Khan মার্চ 18, 2010, 10:00অপরাহ্ন-এ 
reply dao
রাশেদ ফোন দেয়। অনেক দিন পর তার অনামিকার সাথে তার কথা হবে। বুকটা আনন্দে ভরে ওঠে। অজানা এক শিহরণ অনুভব করে সে। দুরু দুরু বুকে অনার নম্বরে ডায়াল করে সে। টু...... টু...... টু...... রিং হচ্ছে। কাপা কাঁপা বুকে অনার কণ্ঠস্বরের জন্য অপেক্ষা করছে সে। লাইনটা কেটে গেল। আবার ফোন দিল সে। কিন্তু ফল একই।
Rashed মার্চ 18, 2010, 10:11অপরাহ্ন-এ
Ami to fon dicchi. But tumi receive kortaso na.
Jisan Khan মার্চ 18, 2010, 10:12অপরাহ্ন-এ 
ooo okay
Jisan Khan মার্চ 18, 2010, 10:13অপরাহ্ন-এ 
ekhn abar dao
আবার ফোন দিল রাশেদ। এবার দেখে ওয়েটিং।
Rashed মার্চ 18, 2010, 10:15অপরাহ্ন-এ
Call waiting. 019******** 01********* 017********
আবার ফোন দিল সে। এবার ফোন রিসিভ করল অনামিকা। করেই বলল, (রাগত স্বরে) তুমি এটা কি করলে? রাশেদ বলে, কি করলাম মানে? অনামিকা উত্তর দেয়, তুমি তুহিন কে সব বলে দিয়েছ। আমি তোমার কাছে এটা আশা করি নাই। তুমি আর কক্ষনো আমাকে ফোন দিবা না। বলেই ফোনটি কেটে দেয় অনামিকা।
হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে রাশেদ। এটা কি হল? এর মানে কি? সে কি করল? চিন্তা করতে থাকে সে। তাহলে কি.........। এবার মেসেজ দেয় সে অনাকে। ২ মিনিটের জন্য হলেও যেন অনা কথা বলে তার সাথে। কিছু ভুল বুঝাবুঝি হচ্ছে। এর কিছুক্ষন পর অনাকে ফোন দেয় রাশেদ। রিসিভ করেই রাগত স্বরে বলে, কি হয়েছে? কি বলবা? রাশেদ তাকে পুরো ঘটনা খুলে বলে। অনামিকা বিশ্বাস করতে চায় না। রাশেদ তার ফেসবুকের পাসওয়ার্ড দেয় অনামিকাকে। দেখে নিতে বলে। কিছুক্ষণ পরে অনামিকা ফোন করে রাশেদকে। বলে, এটা কে করল? এই Jisan Khan টাই বা কে? রাশেদ বলে, বলব?
অনামিকাঃ বল......
রাশেদঃ আমার মনে হয় এটা তুহিন।
অনামিকা নিশ্চুপ।
রাশেদঃ ভালবাসার প্রথম শর্ত হল দুজনের প্রতি দুজনের বিশ্বাস থাকা। যদি কোন সন্দেহ থাকে তবে সেখানে আর ভালবাসা থাকে না। ক্রোধের জন্ম হয়। কেমন ছেলের সাথে প্রেম কর তুমি যে তোমাকে বিশ্বাস করে না। গোয়েন্দাগিরি করে দেখে যে তুমি তোমার প্রাক্তন প্রেমিকের সাথে যোগাযোগ রেখেছ কি না। এই তোমাদের ভালবাসা! এই তোমাদের বিশ্বাস।!! মাঝখানে বলির পাঠা হলাম আমি। ভাল থাকো। তোমাদের শুভবুদ্ধির উদয় হোক।
বলে লাইন কেটে দেয় রাশেদ। তারপর তুহিন কে মেসেজ দেয়।
Rashed মার্চ 18, 2010, 10:29অপরাহ্ন-এ
Who r u? tuhin?

Rashed মার্চ 18, 2010, 10:46অপরাহ্ন-এ
Most probably u r tuhin. vai, manush-ar mon nea experiment koro na. jakay valobaso takay biswas koro. atai sobcha boro kotha. onamika onak valo akta maya. ok kosto deo na. aita amar request.
Jisan Khan মার্চ 20, 2010, 1:10am- 
tuhin?????? ...huh hahahahahahhahahaha ............


                                       চলবে

Friday, April 15, 2011

আমার প্রেম কথা ২য় খন্ড

   রাশেদের বিচ্ছেদের প্রায় এক বছর হতে চলল। রাশেদ ও অনামিকা। অনেক সুন্দর একটা সম্পর্ক ছিল তাদের মাঝে। তাদের বোঝাপড়াও দারুণ। কিন্তু হঠাৎ অজানা ঝড়ে সব ওলট পালট হয়ে গেল। আজও রাশেদের চোখে ভাসে অনামিকার পাঠানো শেষ খুদে বার্তাটি। sorry rashed. its not possible for me to continue this relationship.plz dont ask me any question. i will come to dhaka on 23rd instant. then we wii meet just as a friend.
এরপর অনেক চেষ্টা করেও রাশেদ আর অনামিকার সাথে কোনরকম যোগাযোগ করতে পারে নি। না ফোনে, না সরাসরি। শেষে জেদ চেপে গেল রাশেদের। আর কখনো কোনরকম যোগাযোগ তো করবেই না, যোগাযোগের চেষ্টাও করবে না। রাশেদ তখন কলেজে। সবেমাত্র ১ম বর্ষ শেষ করে ২য় বর্ষে পদার্পণ করল।
সারাক্ষন আনমনা হয়ে থাকত রাশেদ। লেখাপড়া সিকোয় উঠল। যেই রাশেদ একসময় সিগারেটকে ঘৃণা করত, সেই সিগারেট হয়ে উঠল তার নিত্য সঙ্গী। টেস্ট পরীক্ষা চলে আসল।  অন্যরা যেখানে প্লেসে থাকার চেস্তা করে সেখানে রাশেদের পাশ নিয়ে টানাটানি। কনমতে সে উন্নীত হয় বোর্ড ফিনালের জন্য।
রচনামূলক পরীক্ষা শেষ হল। রাশেদ বাড়ি গেল। এদিকে বিচ্ছেদের পরপরই রাশেদের মুঠোফোনটি হারিয়ে যায়। কোন কারনে রাশেদ আর ফোন নেয় না। কিন্তু এবার বাড়ি থেকে ফিরে প্রথমেই রাশেদ ফোন নেয়। মোটামুটি বছর খানেক পরে আবার সেই পুরনো নম্বরটি চালু করল। প্রথম দু’তিনদিন ভালই চলল। ঘটনা ঘটলো পঞ্চম দিন।
তখন ব্যাবহারিক পরীক্ষা চলছিল। পরদিন পরীক্ষা ছিল। তাই গভীর রাতেও পড়ছিল সে। হঠাৎ একটি মিসকল আসে। রাত প্রায় ২টার কাছাকাছি। অচেনা নম্বর। ফোন করল রাশেদ। ওপাশ থেকে ফোন ধরেই কেটে দিল। কে রে বাবা? যে হয় হোক। আবার বই এর পাতায় মন দেয় সে। কিচ্ছুক্ষণ পর একটি খুদে বার্তা পেল সে। vaia, ami nusrat. Eto rate disturb korar jonno sorry. By the way, how are you? খুদে বার্তা দেখে রাশেদের পুরো শরীর হিম হয়ে গেল। নুশরাত! এই নুশরাত আর অন্য কেউ নয়, এ যে অনামিকার ছোট বোন!! অজানা এক উত্তেজনায় কাঁপতে লাগলো রাশেদ। চিন্তা করছে কি করবে এখন? কাঁপা হাতে নম্বরটি ডায়াল করল সে। রিং হচ্ছে।
নুসরাতঃ হ্যালো...
রাশেদঃ হ্যালো...
নুসরাতঃ ভাইয়া?
রাশেদঃ বল নুসরাত...
নুসরাতঃ কি খবর তোমার? ভাল আছো?
রাশেদঃ হ্যাঁ। আছি। তুমি?
নুসরাতঃ আমিও আছি মোটামুটি।
রাশেদঃ তারপর, এতদিন পরে মনে পড়ল ভাইয়াকে?
নুসরাতঃ না। মনে পড়ে সবসময়। একটু আগে তোমার কথা হচ্ছিল। তাই ভাবলাম একটা ফোন দেই।
রাশেদঃ ওঃ তাই। আমাকে নিয়ে কথাও হয়। ভাল ভাল। তো কি কথা হল জানতে পারি?
নুসরাতঃ তেমন কিছু না। এমনিতেই। সবার কথাই হচ্ছিল। প্রসঙ্গক্রমে তুমিও চলে আসলা। এই আরকি।
রাশেদঃ আচ্ছা। তারপর? অনেক দিন তোমার কোন খোঁজ নেওয়া হয় নি। তোমার রেজাল্ট কি? কোথায় ভর্তি হলে?
নুসরাতঃ রেজাল্ট ভালই হইছে। সিটি কলেজে ভর্তি হইছি। তবে এবার বাণিজ্য। বিজ্ঞান বাদ।
রাশেদঃ তাই নাকি? ভালই তো।
নুসরাতঃ তুমি এত রাতে কি করো?
রাশেদঃ কিছু না। কালকে পরীক্ষা আছে। তাই একটু বই দেখছিলাম।
নুসরাতঃ ওঃ তোমাকে বিরক্ত করলাম তাহলে......
রাশেদঃ আরে না। সারা বছর পড়ি নাই। একদিন পড়ে আর কি হবে। কথা বল তুমি। ভালই লাগতেসে।
নুসরাতঃ সব তো আমার কথাই জিজ্ঞেস করছ, আর কারো খবর নিবে না?
রাশেদঃ তাই না? দাও ওকে...
নুসরাতঃ আপু তো এখন নাই। ঘুমাচ্ছে।
রাশেদঃ তাই না? নুসরাত, আমি খুব ভাল করে জানি ও এখনো ঘুমায়নি। ও তোমার পাশে আছে। আমাদের কথা শুনছে।
নুসরাতঃ ভাইয়া, ও বলল যে, ও এখন কথা বলবে না। ওর নাকি ভয় লাগতেসে। ও কালকে তোমাকে ফোন দিবে।
রাশেদঃ ভয় লাগতেসে? কেন? আমি কি বাঘ না সিংহ যে ওকে খেয়ে ফেলব? ওকে বল ভয় নাই।
নুসরাতঃ তারপরও...... ও তো ভয়ে জড়সড় হয়ে আছে।
রাশেদঃ ভয় নাই। ওকে ফোনটা দাও।
এরপর কিছুক্ষণ চুপচাপ। অবশেষে ফোনের অপর পাশে রাশেদ অনামিকার কণ্ঠস্বর শুনতে পেল।
অনামিকাঃ  হ্যালো...
রাশেদঃ ভাল আছো?
অনামিকাঃ হ্যাঁ। তুমি?
রাশেদঃ আছি। খারাপ না।
তারপর দুজনেই চুপ। কেউ কোন কথা খুঁজে পায় না। শুধু শ্বাসপ্রশ্বাসের শব্দ ছাড়া আর কিছুই শোনা যায় না। নিরবতা ভাঙল রাশেদ।
রাশেদঃ বলতে পারো, আজ কতদিন পর আমাদের কথা হচ্ছে?
অনামিকাঃ না। কতদিন?
রাশেদঃ প্রায় ১ বছর।
অনামিকাঃ ও...... তুমি কি সব মনে রেখেছ?
রাশেদঃ মানে?
অনামিকাঃ এই যে সাল, মাস, সময়...
রাশেদঃ আমি কোন কিছুই ভুলি না।
অনামিকাঃ একটা প্রশ্ন করি?
রাশেদঃ এটার জন্য অনুমতি নিতে হবে?
অনামিকাঃ না, তারপরও বললাম......
রাশেদঃ আমাকে তুমি যে কোন কিছু বলতে পারো। এর জন্য অনুমতি নেওয়ার কোন দরকার নেই।
অনামিকাঃ তোমার লাইফে কি নতুন কেউ আসছে? I mean, are you in love with someone new?
রাশেদঃ I am still waiting for you….
অনামিকাঃ এত কিছুর পরেও?
রাশেদঃ এত কিছুর পরেও............
এরপর কিছুক্ষণ চুপ। অবশেষে কথা বলল অনামিকা।
অনামিকাঃ আমি কিভাবে বলব বুঝতে পারতেছি না। I am sorry. Now I am engaged.
রাশেদঃ with whom?
অনামিকাঃ Tuhin….
 রাশেদঃ Congratulation….
অনামিকাঃ আসলে কি, আমাদের ব্রেক আপের পর ও আমাকে অনেক বেশি সাপোর্ট দিয়েছে। আমাকে অনেক ভালবাসছে। আসলে আমারও কোন উপায় ছিল না.........
রাশেদঃ নো প্রবলেম। আর কিছু হোক বা নাই হোক, তুমি নতুন করে তোমার জীবনটা সাজায় নিতে পেরেছ। এটাই বা কম কি?
অনামিকাঃ তুমি এমন কেন?
রাশেদঃ (হেসে) কেমন?
অনামিকাঃ জানি না...... (ও পাশ থেকে চাপা কান্নার আওয়াজ পায় রাশেদ)
রাশেদঃ কাঁদ কেন?
অনামিকাঃ না......
(আবার কিছুক্ষণ চুপ)
অনামিকাঃ তুমি কেন নতুন করে কোন রিলেশনে গেলে না?
রাশেদঃ দেখো অনা, যারা মানুষের মন আর ইমশন নিয়ে পুতুল খেলে আমি তাদের ঘৃণা করি। আমি নিজেকে কখনো তাদের কাতারে দেখতে চাই নি। আর সবচেয়ে বড় কথা হল আমি তোমাকে ভালবাসি। আমার সবকিছুতে আগে যেমন তুমি ছিলে, এখনো তেমনি আছো। আমি সেভাবেই তোমাকে কল্পনা করি। এর মধ্যে অন্য কারো কথা মনে হওয়ার কোন সুযোগ ছিল না।
অনামিকাঃ তুমি এত ভাল কেন......
রাশেদঃ (হেসে) এমনি এমনি...
রাশেদের বুক ফেটে কান্না বের হচ্ছে। কিন্তু সে প্রকাশ করছে না। তার প্রেমিকা যে কিছুদিন আগেও তার হাতে হাত রেখে পথ চলত, তার হাত এখন অন্য হাতে। তার এতদিনের স্বপ্ন চুরমার হয়ে যাচ্ছে। অথচ সে হাসিমুখে সব বরন করে নিচ্ছে। দু’গাল বেয়ে অশ্রু ঝরছে কিন্তু হাসি মুখে কথা বলছে। এ মুহূর্তে রাশেদের মনে হচ্ছে সে যদি এখন পুরো পৃথিবী ধ্বংস করে দিতে পারতো......
অনামিকাঃ আমি অনেক খারাপ। আমি তোমাকে অনেক কষ্ট দিয়েছি।
রাশেদঃ কষ্ট! কেন?
অনামিকাঃ এই যে স্বার্থপরের মত নতুন করে রিলেশন করলাম......
রাশেদঃ কে কি বলে জানি না, তবে আমার কাছে ভালবাসার সংজ্ঞা ভিন্ন। আমি তোমাকে ভালবাসি এর মানে আমি সবসময় তোমাকে সুখি দেখতে চাই। এখন যদি এমন হয় যে তুমি আমার চাইতে অন্য কারো সাথে থাকলে বেশি সুখি হবে, then you are most welcome. আমি হাসি মুখে তোমাকে বিদায় জানাব।
অপর পাশ থেকে অঝোর কান্নার আওয়াজ পায় রাশেদ। সে নিজেও আর নিজেকে নিয়ন্ত্রন করতে পারে না। ডুকরে কেঁদে ওঠে...... কিছুক্ষণ পর
রাশেদঃ অনা, আমি রাখি এখন। পরে কথা হবে।
অনামিকাঃ আচ্ছা। ভাল থেকো।
রাশেদঃ bye.
অনামিকাঃ bye. Love you.
রাশেদঃ love you too.
ফোন কেটে দেয় রাশেদ। অঝোরে কাঁদতে থাকে। এটা কেন হল? এমন তো হওয়ার কথা ছিল না। তার ১২ বছরের ভালবাসার এই পরিনতি.........
তারপর প্রতিদিনই কথা হয় রাশেদ আর অনামিকার। সাধারন কথা।
এদিকে রাশেদ চিন্তা করে তার এখন কি করা উচিৎ। অনেক ভেবে সে সিদ্ধান্ত নেয় যে আগে যা হওয়ার হয়েছে, তারও উচিৎ নতুন করে রিলেশনে যাওয়া। সে ঠিক করে তার বান্ধবী ফারিহাকে অফার করবে। ফারিহা তাদের সাথেই পরে। এমনি পরিচয়। কথা হয় নিয়মিত। দেখতে শুনতেও ভাল। এই ফারিহার সাথে রাশেদের পরিচয় এক স্যার এর কাছে পড়তে গিয়ে।  একদিন ফোনে ফারিহাকে অফার করে ফেলে সে। ফারিহাও রাজি হয়। অতঃপর শুরু হয় রাশেদের নতুন জীবন। প্রায় সারাদিন এমনকি গভীর রাত পর্যন্ত কথা হত তাদের। একদিন ফারিহাকে দেখা করতে বলে রাশেদ। তারিখ, সময় সব ঠিক করে ওরা। নির্দিষ্ট দিনে নির্ধারিত জায়গায় (বসুন্ধারা সিটি) উপস্থিত হয় তারা। ফারিহা বলে যে ও বেশিক্ষণ থাকতে পারবে না। তারাতারি চলে যেতে হবে। প্রায় আধা ঘণ্টার মত ছিল সে। তারপর তার একটা ফোন আসে। সে বলে তার আম্মু ফোন দিয়েছে। তাকে যেতে হবে। রাশেদ বলে, আচ্ছা। যাও। আমার হেড ফোনটি নষ্ট হয়ে গেছে। আমি একটা নতুন কিনে তারপর যাব। রাশেদ ও ফারিহা একসাথে নিচে নামে। তারপর রাশেদ যায় হেড ফোন কিনতে। একসময় ৬ তলার ফোনের দোকানগুলোতে যায় সে। কিন্তু দাম বনিবনা হয় না। সবাই অরজিনাল হেড ফোনের দাম ৬০০+ চায়। কিন্তু তার বাজেট ৫০০। সে মাঝখনে দাঁড়িয়ে নিচের দিকে তাকায়। দেখে, তার ঠিক নিচেই একজোড়া হাত দেখা যাচ্ছে। হাতের ব্রেসলেটটি তার কেমন যেন চেনা চেনা লাগে। আরে, এই ব্রেসলেট তো ফারিহার হাতে ছিল!! তবে কি? দেখি তো...... আরে... এ তো ফারিহাই!!! সাথে আবার একটি ছেলে!!! ভাল। দেখি এরা কি করে। রাশেদ ওদের ফলো করতে থাকে। ওরা এ ফ্লোর ও ফ্লোর ঘোরাঘুরি করতে থাকে, কথা বলতে থাকে। একসময় হাতে হাত ধরে হাঁটতে থাকে তারা। রাশেদ নিরবে দূর থেকে ফলো করে তাদের। হঠাৎ রাশেদ হারিয়ে ফেলে ওদের। খুঁজতে শুরু করল। এপাশ ওপাশ,  এ ফ্লোর ও ফ্লোর, এ গলি সে গলি......। তারপর মুখোমুখি! রাশেদ ও ফারিহা দু’জনেই থতমত খেয়ে যায়। রাশেদ মাথা নিচু করে চলে আসে। এরপর থেকে রাশেদ বা ফারিহা, কেউ কাউকে ফোন দেয় না। সেদিন রাতে ফোনে অনামিকাকে ফোনে পুরো কাহিনী শোনায় রাশেদ। অনামিকা বলে, দেখো, তুমি এটা আমার উপর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য করতে গিয়েছিলে। তুমি আমাকে ভালোবাসো আর এটা প্রতিশোধ। তাই এমন হয়েছে। তুমি অন্য কাউকে আমার জায়গায় নিয়ে আসিও না, রাখতে পারবা না।
তারপর একসময় অনামিকার সাথেও কথা বলা বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু রাশেদ ভুলে না তার সেই কথা, ‘তুমি অন্য কাউকে আমার জায়গায় নিয়ে আসিও না, রাখতে পারবা না’। তাইতো রাশেদ আজও একা। মাঝরাতে ডুকরে ওঠা কান্নাকে সম্বল করে আজও সে ভালবেসে চলেছে তার অনাকে............।